বর্তমান সময়ে কেন একটি ওয়েবসাইটের প্রয়োজন?

মানুষ এখন সব কিছুতে প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায়, সব কাজেই কম কষ্টে ভাল ফলাফল আশা করে থাকে। আর সেই কারনে এখন ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয়, লেন-দেন, সব কিছুই হচ্ছে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কারন ওয়েবসাইটের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন কাজ গুলোকে অনেক বেশি সহজ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।

মনে করুন আপনি একজন ব্যবসায়ী, সেক্ষেত্রে একটি মানসম্মত ওয়েবসাইটই পারে আপনার তথ্য অথবা সেবা আপনার গ্রাহকের কাছে খুব সহজে পৌঁছে দিতে। বর্তমানে প্রায় সব দেশেই হাজার হাজার মানুষ ঘরে বসে সারা দেশে কাজ করতে পারছে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এবং তারা আয়ের উৎস হিসেবেই এটিকে কাজে লাগিয়েছে।

এছাড়াও ওয়েবসাইট হল এমন একটি প্রচার মাধ্যম, যেখানে একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান অনেক কম সময়ে কম খরচে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে নিজেকে অথবা তার পণ্য সেবার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে সক্ষম হচ্ছে।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ওয়েবসাইট এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য…

গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধিঃ

বর্তমানে মানুষ যে কোন কিছু কেনার আগে, অথবা যে কোন সেবা গ্রহনের আগে গুগলে সার্চ করে থাকে। এবং সার্চ ইঞ্জিনে প্রদর্শিত ফলাফল গুলো থেকে মানুষ ওয়েবসাইটে সবচেয়ে বেশি ভিজিট করে থাকে। আর তাই ওয়েবসাইটে গ্রাহকের সংখ্যা অনেক বেশি পরিমানে থাকে। এবং ওয়েবসাইটে একসাথে বিভিন্ন রকম ক্যাটাগরি সাজানো থাকায়, গ্রাহক সেবা এবং পণ্য বাছাই করে দেখতে পারে। এবং এতে করে ওয়েবসাইটে অনেক নতুন নতুন গ্রাহক আসতেই থাকে।

গ্রাহকের আস্থা তৈরিঃ

এখন মানুষ অনেক সতর্কতার সাথে যে কোন কাজ করে থাকে। এতে করে অনেকে আছেন যারা ফেইসবুকে ব্যবসা ও সেবা প্রদান করে থাকে। কিন্তু তাদের সম্পর্কে কোন প্রকার তথ্য দেওয়া থাকে না। তাই গ্রাহক খুব বেশি আস্থা করেন না এসব পেজের উপর। অপর দিকে ওয়েবসাইট হলে গ্রাহক আস্থার সাথে যেকোন পণ্য অথবা সেবা নিতে ইচ্ছুক হয়। কারন ওয়েবসাইট থাকলে তারা সেই প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাকে প্রোফেশনাল মনে করেন। এবং যেকোন পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করেন বিশ্বাসের সাথে। কারন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পেমেন্ট ব্যবস্থায় গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করার কোন সুযোগ নেই।

স্থায়ী গ্রাহক প্রাপ্তিঃ

যে কোন গ্রাহকই কোন কিছু নেওয়ার সময় এক জায়গা থেকে একসাথে বিভিন্ন রকমের পণ্য বা সেবা গ্রহন করতে চায়। এক্ষেত্রে গ্রাহকের সময় বাচে এবং ঝামেলাও কম হয়। ওয়েবসাইটে যেহেতু একই সাথে অনেক অনেক ক্যাটাগরি সাজানো থাকে, সেহেতু গ্রাহকরা ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সকল কিছু পেয়ে থাকে। আর সেই ওয়েবসাইটে একই গ্রাহক বার বার ভিজিট করেন, এবং তাদের সেবাগুলো নিতে আগ্রহী হন। সেই হিসেবে স্থায়ী গ্রাহক পাওয়া খুবই সহজ হয়ে যায়।

পণ্য বাছাই করা সহজঃ

ওয়েবসাইট থেকে গ্রাহকদের পণ্য বাছাই করা খুবই সহজ একটি বিষয়। কারন ওয়েবসাইটে যখন গ্রাহক কোন পণ্য সার্চ করে থাকেন, তখন সেখানে একই রকম অনেক গুলো পণ্য প্রদর্শিত হয়। এবং গ্রাহক খুব সহজে তার কাঙ্ক্ষিত পণ্য বাছাই করতে পারে। আর একটি ওয়েবসাইটে অনেকগুলো ক্যাটাগরি থাকায়, গ্রাহকরা একসাথে অনেক পণ্য নিতে পারেন।

সার্বক্ষণিক ব্যবহার উপযোগীঃ

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি ব্যবসা অথবা যে কোন ধরনের সেবা প্রদান করলে দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই কাজ করতে পারবেন। কারন এতে কোন বাধ্যবাধকতার নিয়ম নেই। আপনার ওয়েবসাইটের মালিক যেহেতু আপনিই, সেহেতু যে কোন সময়ই গ্রাহকদের সার্ভিস দিতে পারবেন। এবং আপনি যদি অফলাইনে থাকেন সেক্ষেত্রেও গ্রাহকরা যেকোন সময় ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য দেখতে পাবেন, আর পণ্য অর্ডার করতে পারবেন। ছুটির দিনগুলোতেও আপনি আপনার কাজ চালু রাখতে পারবেন।

মার্কেটিং এ সহজ ব্যবহারঃ

ওয়েবসাইট থাকলে আপনার মার্কেটিং করতে অনেক বেশি সুবিধা হবে। কারন আপনার ওয়েবসাইটে কেউ ভিজিট করলে অথবা কোন পণ্য দেখে থাকলে আপনি গ্রাহকদের সেই সকল তথ্য জানতে পারবেন। এবং তাদের মোবাইল নাম্বার, ইমেইল সংগ্রহ করে পরবর্তিতে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য জানিয়ে দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে ইমেইল মার্কেটিং ও সহজ উপায়ে হয়ে যাবে। গুগল সার্চ র‍্যাংকিং এ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ওয়েবাসাইটগুলো। সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং, পেইড অ্যাডস, এসইও এর মাধ্যমে মার্কেটিং করা সম্ভব ওয়েবসাইট থাকলে। আর এতে করে আপনার গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যাবে খুব সহজেই।

পণ্য ও সেবাপ্রদানকারীকে সহজে খুজে বের করা যায়ঃ

কোন গ্রাহক যদি আপনার পণ্য অথবা সেবা সম্পর্কে অন্য কোন গ্রাহকের কাছে শুনে থাকে, তাহলে সে গুগলে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম লিখেই সার্চ করবে। আর আপনার ওয়েবসাইট থাকলে আপনাকে খুব সহজেই খুজে বের করতে পারবে। কিন্তু আপনার যদি ওয়েবসাইট না থাকে তাহলে সে অন্য কোন ওয়েবসাইটে চলে যাবে সেই পণ্য ক্রয় করতে। এভাবেই ওয়েবসাইট থাকলে সম্ভাব্য গ্রাহকের সংখ্যাও অনেক গুনে বৃদ্ধি পায়।



Leave a Reply